ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নাভালনিকে ‘ব্যাঙের বিষ’ প্রয়োগের অভিযোগ, রাশিয়া তা খণ্ডন করেছে

যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা দাবি করেছে যে রাশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির দেহে ডার্ট ফ্রগ থেকে পাওয়া এপিবাটিডিন নামক বিষের উপাদান পাওয়া গেছে এবং তারা মনে করে এটি প্রযোজ্যভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে ক্রেমলিন ওই অভিযোগকে নাকচ করে তথ্যপ্রচারণা আখ্যা দিয়েছে।

নাভালনির মৃত্যু হয়েছিল দুই বছর আগে—সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে বন্দি থাকার সময়।当時 তার বয়স ছিল ৪৭। রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছিল তিনি হঠাৎ হৃদরোগে প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু পরে যুক্তরাজ্য ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের তথ্যে বলা হয়, নাভালনির দেহে এপিবাটিডিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা ডার্ট ফ্রগের থেকে বিপুল শক্তির একটি প্রাকৃতিক স্নায়ুবিষ।

মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, ‘‘রাশিয়ার কারাগারে নাভালনিকে বন্দি অবস্থায় এই বিষ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেবল রুশ সরকারেরই সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ ছিল।’’ তিনি নাভালনির বিধবা স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়ের সঙ্গেও দেখা করেন এবং জানায় যে ইউলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন তাঁর স্বামীকে সরাসরি বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে।

রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসে বলা হয়েছে যে পশ্চিমা দেশগুলোর এই অভিযোগ কোনো ভিত্তিহীন ‘ইনফরমেশন ক্যাম্পেইন’। ক্রেমলিন এখনও ফিরে গিয়ে তদন্ত-প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে জানায়নি এবং অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘সাইবেরিয়ার ওই কারাগারে বন্দি অবস্থায় নাভালনির ওপর মারাত্মক বিষ প্রয়োগ করার সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ কেবল রুশ সরকারের কাছেই ছিল, এবং আমরা তাঁর মৃত্যুর জন্য রাশিয়াই দায়ী বলে মনে করি।’’ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ডার্ট ব্যাঙ সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চলে পাওয়া যায়, বন্দি অবস্থায় এটি এমন বিষ উৎপাদন করতে পারে না এবং রাশিয়াতেও এই ধরনের বিষ স্বাভাবিকভাবে নেই—তাই দেহে এপিবাটিডিনের উপস্থিতির কোনো নির্দোষ ব্যাখ্যা আপাতত চোখে পড়ছে না।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বর্ণনা অনুযায়ী, ডার্ট ফ্রগ ছোট ও উজ্জ্বল রঙের ব্যাঙ; এদের ত্বকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিষ থাকে। বিবিসির উদ্ধৃত বিষবিদ্যা বিশেষজ্ঞ জিল জনসন বলেছেন, এপিবাটিডিন মারফিনের চেয়ে প্রায় দু’শ গুণ বেশি শক্তিশালী।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে তারা রাশিয়ার সম্ভবত রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অবহিত করেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নাভালনির গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামকে সম্মান জানিয়ে বলেছেন, ‘‘তিনি অত্যন্ত সাহসী ছিলেন’’ এবং বলেছেন যে তিনি ও তাঁর সরকাররা রাশিয়ার হুমকি থেকে জনগণ ও মূল্যবোধ রক্ষা করার জন্য যে ব্যবস্থা প্রয়োজন তা নিচ্ছেন।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ ও রাশিয়ার প্রত্যাখ্যানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট একটি স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে, যা নাভালনির মৃত্যু ও দেহে পাওয়া বিষের উৎস সম্পর্কে স্পষ্টতা আনতে পারবে।