ঢাকা | বুধবার | ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১লা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল

আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম বড় কোনো ওঠানামা ছাড়াই স্থিতিশীল রয়েছে। কূটনৈতিক সমঝোতার আশা এবং সরবরাহ বাড়ার খবর বাজারে সংশয় ও শিথিলতার মিশ্র প্রভাব ফেলছে।

সোমবার সকাল আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল 67.78 ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি। উভয় প্রধান সূচকে মৃদু ওঠানামা দেখা গেলেও ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেল 62.91 ডলারে অধিকাংশ সময় স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা এবং ওপেক প্লাস সদস্যদের উৎপাদন বাড়ানোর ইঙ্গিত বাজারকে আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য যে ওয়াশিংটন ও তেহরান আগামী এক মাসের মধ্যে কোনো চুক্তির দিকে এগোতে পারে, সেটিও সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা প্রসারিত করেছে।

জেনেভায় মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে পারমাণবিক বিরোধ মীমাংসা এবং নতুন সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় আলোচ্য হবে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।”

তবে বাজারে স্থায়ী ফলাফলের বিষয়ে খাতায়-কলমে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্যের প্রভাবে তেলের দাম কিছুটা কমার পর দুই দেশেই তাদের নিজ শর্তে অনড় থাকার কারণে দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়া নিয়ে বিশেষ আশাবাদ নেই। একই সঙ্গে ওপেক প্লাসের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এপ্রিল থেকে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ালে ভবিষ্যতে দাম পুনরায় ওঠানামার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংক্ষেপে, কূটনৈতিক কদম এবং উৎপাদন নীতির মিলিত প্রভাবই এখন বাজারকে তৎপর রাখছে; সামনের দিনগুলোতে ঘটনাবলি অনুযায়ী তেলের দাম আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।