ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ভারতকে উড়িয়ে পাকিস্তানের বড় হার

বিশ্বক্রিকেটের উত্তেজনা ও মাঠের বাইরেও নানা নাটকীয়তা উপেক্ষা করে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দেখা গেল ভারতের দুর্বলতার বিরুদ্ধে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের গ্রুপ-এ থেকে সবার আগে সুপার এইটে জায়গা করে নিল ভারত। এই জয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় লক্ষ্য করতে সক্ষম হওয়া ভারত এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে স্থির, পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সর্ববৃহৎ টি-টোয়েন্টি জয়ের রেকর্ডও সৃষ্টি হলো। পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার জন্য ভারতীয় বোলাররা শুরু থেকেই বিধ্বংসী আক্রমণ চালায় এবং পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ এই চাপের মুখে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। মাত্র ১৮ ওভারে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি সালমান আগার দল।

ম্যাচের শুরুতেই টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান, আর শুরুতেই নির্মম বিপদে পড়তে হয় তাদের। ওপেনার অভিষেক শর্মার শূন্য রানে বিদায় নেওয়ার পর ইশান কিশান তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে ফিরিয়ে আনেন। এই বাঁহাতি ব্যাটার মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে ৭৭ রান করেন, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা। প্রথম ৮৮ রানের মধ্যে ৭৭ রানই করেছিলেন কিশান। পাকিস্তানের জন্য এই ইনিংসের মূল বাঁধা ছিল স্পিনার সাইম আইয়ুবের দুর্দান্ত বল। তিনি টানা দুই বলে তিলক বর্মা ও হার্ডিক পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে স্পষ্ট করে দেন ম্যাচের মোড়। তবে শেষ দিকে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (২৯ বলে ৩২) ও শিভম দুবে (২৭ রান) দলের সম্মানজনক সংগ্রহ নিশ্চিত করেন, এবং ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৫ রানে।

পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন সাইম আইয়ুব ও উসমানী জোড়া আঘাতে পাকিস্তানের বিপর্যয় তৈরি করেন। শুরুতেই খানিক্ষণের মধ্যে ১৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় তারা। সাহেবজাদা ফারহান ও বাবর আজমের একজন চেষ্টা করলেও, এই দুর্বলতা ছেড়ে দেয় পাকিস্তান। পাওয়ারপ্লের শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৩৮ রান।

মিডল অর্ডারে উসমান খান একটু প্রতিরোধ গড়লেও পরে অক্ষর প্যাটেলের স্পিনে স্টাম্পড হয়ে যান, যা পাকিস্তানের আশা শেষ করে দেয়। শেষ দিকে শাহীন আফ্রিদি ১৯ বলে ২৩ রান করে অবশ্য কিছুটা সম্মান রক্ষার চেষ্টা করেন। ভারতের পক্ষে বল হাতে ছিলেন জসপ্রীত বুমরা, হার্ডিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তী—প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নেওয়ার সুযোগ পান। এই সুসংহত বোলিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভারতের ব্যাটাররা ক্রিজে टिकতে পারেনি পাকিস্তানের।

মাঠের বাইরেও ছিল প্রবল উত্তেজনা। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবার পর পাকিস্তান সরকার এই ম্যাচ বর্জনের হুমকি দিয়েছিল, তবে আর্থিক ক্ষতির ভয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত পাল্টায়। ম্যাচের টসের সময় দুই অধিনায়কের সাক্ষাতে করমর্দনের বদলে দূরে সরে থাকাকেও নজরে আসে দর্শকদের। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতের জন্য সুপার এইটের পথ অনেকটা সহজ হলো, তবে এটি শুধু একটি বড় মানসিক জয় নয়, বরং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। অন্যদিকে, বড় ব্যবধানে হারের ফলে পাকিস্তানের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠল।