ঢাকা | রবিবার | ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নেদারল্যান্ডসকে ৯৩ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো যুক্তরাষ্ট্র

ত্রয়োদশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৯৩ রানে উড়িয়ে নিয়ে ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে তাস গোঁজার মতো নেদারল্যান্ডসের ইনিংস ভেঙে পড়ার পর মার্কিন দল বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬ রানের সংগ্রহ গড়ে। দলের হয়ে সাইতেজা মুক্কামাল্লা ৫১ বল হাতে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৯ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। শিবাম রঞ্জন (অপরাজিত ৪৮, ২৪ বল, ৩ চার ২ ছক্কা) গেল দলের ইনিংসকে স্থিতিশীলতা ও মারকাটারি গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখেন। দু’জনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে মার্কিনরা ডাচ বোলিং লাইনআপকে ওপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে ১৯৭ রানের লক্ষ্য রেখে দেয়।

নেদারল্যান্ডসের উচিত ছিল শান্তভাবে জুটি গড়ে লক্ষ্যমুখী করার, কিন্তু শুরু থেকেই তারা সামনা সামনি লড়াই করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত ও সাম্প্রতিক গতির বোলিংয়ে ডাচ ব্যাটিং ভাঙে পড়ে। ১৯৭ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৫.৫ ওভারেই তারা ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের মাত্র চার ব্যাটারই দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন; সর্বোচ্চ স্কোর করা বাস দে লিড ২৩ ও অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডস ২০ রান করেন।

হারমিত সিং ছিলেন ম্যাচের নির্ধারক—৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচ করে ৪ উইকেট নেন এবং ম্যাচ সেরার পুরস্কার লাভ করেন। ডাচ বোলার ফ্রেড ক্লাসেন কিছুটা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করলেও আমেরিকান ব্যাটিংয়ের তাণ্ডব সামলাতে পারেননি।

এই জয়ের ফলে আইসিসি সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়কথা রচিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের নামে; আগে এই রেকর্ডটি ছিল নেপালের কাছে, যারা ২০২৪ সালে হংকংকে ৮০ রানে হারিয়েছিল। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডটি এখনও শ্রীলঙ্কার দখলে আছে (কেনিয়াকে ১৭২ রানে হারানো), তবু অ্যাসোসিয়েট দলের মধ্যে এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সাফল্য।

টুর্নামেন্টের শুরুতে ভারতের ও পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের পরে এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের সুপার এইটের আশা জাগিয়ে তুলেছে এবং দলের আত্মবিশ্বাসে বড় যোগান দিয়েছে। টানা হার কাটিয়ে এনে এমন এক রেকর্ডগড়া জয় মার্কিন ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হল।