ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মির্জা ফখরুলের আহ্বান: রাজনীতিতে মিথ্যা বলবেন না ও ধর্মীয় অনুভূতি নষ্ট করবেন না

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নারগুন ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামের নাম করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ফখরুল জোর দিয়ে বলেছেন, যে কেউ রাজনীতি করতে পারে, কিন্তু দয়া করে মিথ্যা বলবেন না, অন্য কারো বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ভাষা বা গীবত করবেন না। বিএনপি সবসময় সত্যের পক্ষে থাকেন এবং কারো ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে রাজনীতি করেন না—এটাই দলের নীতি বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

ধর্মীয় অনুভূতি Manipulation এর কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, জামায়াত সাধারণ মা-বোনদের ভুল বোঝানোর জন্য কিছু অশোভন কথা বলে, যে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব—এমন বিশ্বাস একজন সত্যিকার মুসলমানের পক্ষে থাকতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রতীকে ভোট দেওয়া জান্নাত লাভের চাবিকাঠি নয়; এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আমল ও কঠোর পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ, যা কেবল আল্লাহর ইচ্ছায় নির্ধারিত। এ সময় তিনি দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, অনেক বিশিষ্ট ইসলামিক নেতা মনে করেন, জামায়াত কোনো প্রকৃত ইসলামী দল নয়, বরং তারা ইসলামের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতের আমিরের একটি বিতর্কিত পোস্টের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা মা-বোনদের অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে, তারা ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে। তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, ইসলাম নারীর মর্যাদা খুবই উঁচু מקום দেয়—মায়ের পায়ের নিচে বেহেশত থাকা আমাদের ধর্মের মূল শিক্ষা। যারা নারীর সম্মান দিতে ব্যর্থ হয় তারা দেশের উন্নয়ন ও সমাজের কল্যাণে আসল কোনো অবদান রাখতে পারবে না—এমনটাই তার মত। জামায়াত আমিরের এই আচরণে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং ভোটারদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মানুষ হয়তো নতুন করে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের সুযোগ পাচ্ছে। বিগত নির্বাচনে ভোটের স্বাধীকার উপড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্র ও রাতের আঁধারে নির্বাচন সম্পন্নের সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, যা এবার বন্ধ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে ঠাকুরগাঁও সদর আসনের উন্নয়ন খুবই কম হয়েছে এবং বেকার সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যদি এই এলাকার ভোটাররা তাকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী করে, তাহলে তিনি এলাকার উন্নয়ন এবং বেকারত্ব দূর করতে যোগ্য ভূমিকা রাখবেন। নিজের শেষ নির্বাচনী লড়াইয়ে তিনি ভোটারদের আন্তরিক সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন। পারস্পরিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।