ঢাকা | বুধবার | ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ফুলবাড়িয়ায় রাস্তা খনন করে পুকুর, ৯টি পরিবার দুর্ভোগে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা খনন করে পুকুর তৈরি করে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ কয়েকটি পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে বলা হয়েছে, সমস্যার সমাধান চাইতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানাগেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে এই এলাকায় ৪০ শতক জমি ক্রয় করেন সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯ জন পরিবার। ক্রয়কৃত জমির সঙ্গে ৪ ফুট চওড়ার একটি চলাচলের রাস্তা ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করে আসছিলেন। পরে ওই জমিতে তারা বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসতি গড়েন।

কিন্তু সম্প্রতি জমির মালিক কাজী ইমান আলী ও তাঁর ভাই কাজী হোসেন আলীর পারিবারিক কলহের জেরে রাস্তা খনন করে পুকুর করা হয় এবং পুকুরের চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ব্যাহত হয়েছে ওই ৯টি পরিবারের দৈনন্দিন চলাচল; বাচ্চারা স্কুলে যাওয়া-আসা করতে পারছেন না, সাধারণ মানুষও পথ ব্যবহার করতে পারছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলাচলের পথে ঘেঁষে পুকুর খনন করা হয়েছে। পুকুরপাড়ে কোনো সঠিক প্রাচীর বা স্লোপিং ব্যবস্থাও নেই, ফলে রাস্তার মাটি ধসে পড়ে পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পথের একাংশে পচা পানি জমে এবং মানুষকে জুতা হাতে পানি ছোঁয়া নিয়ে চলতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার অবস্থা ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। পাশের চারতলা ভবনটিও ফাউন্ডেশন ধসের কারণে ঝুঁকিতে আছে। অভিভাবকরা বাচ্চাদের হাত ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন; কেউ সবার নাড়ি রেখে দিলে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগীদের একাধিক বক্তব্য উদ্ধৃত করলে তামান্না আক্তার বলেন, ‘‘আমরা ৯ জন মিলে ৪০ শতক জমি কিনে এখানে বসত করেছি। আমাদের দলিলে রাস্তার উল্লেখ আছে। দুই ভাইয়ের কলহে আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না। তারা যেন দ্রুত রাস্তার সমস্যা ঠিক করে দেন, সেটাই চাই।’’

লীমা আক্তার আরও বলেন, ‘‘জীবনের আশা-ভরসা রেখে এখানে বাসা করেছি। এখন বাড়ি থেকে বের হওয়া ঠিকমতো সম্ভব নয়, গেট প্রায়ই তালাবদ্ধ রাখতে হয়। মাঝেই আমার শিশুটি হঠাৎ পা ফসকে পুকুরে পড়ে গেল; আল্লাহ না করে বড় কোনো দুর্ঘটনা হলে কে দায় নেবে?’’

মোশারফ হোসেন জানান, ‘‘এটা পুরনো চলাচলের রাস্তা। তারা বিল্ডিং ভেঙে পুকুর খনন করেছে, ফলে রাস্তাটি ধসে গেছে। আমার চারটি ছোট বাচ্চা স্কুলে যেতে পারছে না। আমরা ভীত—কখনো কোনো বাচ্চা ঐ গর্তে পড়ে যাক, সেই ভয় থাকে।’’

অভিযুক্ত কাজী হোসেন আলীর বক্তব্য ধরা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমার ভাই জোর করে আমার জমি থেকে রাস্তা নিতে চেয়েছেন, এজন্য আমি রাস্তা আটকে দিয়েছি। জমি সংক্রান্ত আরও সমস্যা রয়েছে; তা মিলিয়ে সমাধান হবে, তার আগ পর্যন্ত রাস্তা খোলা থাকবে না।’’ অন্যদিকে কাজী ইমান আলী দাবি করেছেন, ‘‘আমরা ৪ ভাই মিলে জমি বিক্রি করেছি এবং ওই রাস্তা নতুন নয়, বহু বছরের পুরোনো পথ। আমার ছোটভাইয়ের জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে তিনি অনাকাঙ্খিতভাবে অন্যদের চলাচল বন্ধ করেছেন।’’

ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তদন্ত করে জানার জন্য পৌর প্রশাসককে সরেজমিনে দেখতে ও রেজিস্ট্রারভিত্তিক দলিল পর্যালোচনা করে ক্ষতিসাধ্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত স্থায়ী সমাধি চান, যাতে তাদের জীবন-জীবিকা ও স্কুলযাত্রা সচল রাখতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি ও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।