মস্কোতে এক বিশেষ বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ড. খলিলুরের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। তিনি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে মস্কোতে রয়েছেন।
বৈঠকে সের্গেই লাভরভ ড. খলিলুরকে ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং বলেন, রাশিয়া জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করে তোলার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন দেয়। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘‘দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ফল’’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে আগামী জানুয়ারিতে সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের সম্ভাব্য কার্যক্রমে বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল ও ফলপ্রসূ সংলাপ বজায় থাকার প্রতি তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের সময় এবং পরে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তার বিশেষ আবেগ রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করার জন্য তৎকালীন সোভিয়েত নৌবাহিনীর অবদানকে তিনি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ড. খলিলুর বলেন, বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে তিনি দুই দেশের বাড়তে থাকা অংশীদারিত্বের অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বৈঠকে উঠে এসেছে। আলোচনা শেষে উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক জড়িততা বাড়ানোর জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। রুশ তরফে মস্কো এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে গত কয়েক বছরে জ্বালানি ও কারিগরি ক্ষেত্রে গড়ে ওঠা সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং সচেতন পরিকল্পনা ও উচ্চস্তরের সংলাপের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য ফল পাওয়া যাবে।












