ঢাকা | সোমবার | ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের خواب দেখছেন ফিন সুরম্যান

২০১০ সালের বিশ্বকাপে স্লোভাকিয়ার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নাটকীয় ড্র দেখেই টিভির সামনে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন ছয় বছর বয়সি ফিন সুরম্যান। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ পেয়েছে—এইবারের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের মূল স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

কিউইদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ঐতিহ্যবাহী জয়খরা ভাঙা। ওশেনিয়া অঞ্চলের এই দেশটি পূর্বেও দুইবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে, কিন্তু মূল টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ জেতেনি।ফিফাকে দেয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ডিফেন্ডার ফিন সুরম্যান স্পষ্ট করেছেন, তারা শুধুমাত্র অংশ নিতে আসছেন না; তাদের উদ্দেশ্য প্রথম জয়ের মাধ্যমে নক-আউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া।

নিউজিল্যান্ড ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বেলজিয়াম, মিশর ও ইরানের সঙ্গে। গ্রুপটি কঠিনই বলা চলে, তবে সুরম্যান বলেন প্রতিটি দলের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে লড়াই করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আনাই সম্ভব। তিনি যোগ করেছেন, কাগজে–কলমে যাদের নাম বড় নাও লাগুক, প্রত্যেক দলের দলে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চ্যালেঞ্জিং হবে।

শৈশব কেটেছে ক্রিকেট, হকি, ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলেই; তবে ১৪ বছর বয়সে পুরোপুরি ফুটবলে মনোনিবেশ করেন সুরম্যান। তার আগে ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে দেশের হয়ে খেলেছেন—এই অভিজ্ঞতা এখন তার ঝুড়িতে আছে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সের হয়ে খেলছেন।

বড় টুর্নামেন্টে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা সুরম্যানের মতে মূল বিশ্বকাপে স্নায়ু সামলাতে ও দলের রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিতে কাজে লাগবে। তিনি নিজেকে মূলত রক্ষণভাগে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন—প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করা, নিখুঁত ট্যাকল ও শট ব্লক করাই তার খেলার বিশেষত্ব। নিজেকে ‘ডিফেন্ডারদের ডিফেন্ডার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি ভক্তদের সামনে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

সামঞ্জস্যপূর্ণ সংহতি ও ভ্যাঙ্কুভারের মাঠে কিউই সমর্থকদের সরব উপস্থিতি নিউজিল্যান্ডের দীর্ঘদিনের জয়খরা ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। সুরম্যানের বিশ্বাস, দলের একতা ও যত্নশীল রক্ষণ তাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করতে সাহায্য করবে।