রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার চার্জশিট রবিবারই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, এই মামলাটি বিশেষ আদালতে দ্রুত ত্বরান্বিত করা হবে এবং আশা করেন মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে বলেছেন, ‘‘আদালতের বিষয় এটি—তবে আশা করছি আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করবেন।’’ পুলিশ বর্তমানে চার্জশিটের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলাটির প্রধান আসামি হিসেবে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্বপ্না আক্তারকে ইতোমধ্যে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হয়েছে।
গত বুধবার সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঘটনার পূর্বে মাদক সেবনের ফলে তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে যায় এবং এরপরই রামিসাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল আরও জানিয়েছেন যে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড চলাকালে তিনি স্ত্রীকে নির্দিষ্ট একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন। পরে লাশ টুকরা করে কেবল গুম করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল; কিন্তু তখনই রামিসার পরিবার ও স্থানীয়রা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। জনরোষে বাঁচতে সোহেল ও তার এক সহযোগী জানালার গ্রিল কেটে পালাতে সক্ষম হলেও স্থানীয়রা স্বপ্নাকে হাতেনাতে ধরেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আক্রোশ দেখা দিয়েছে; দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে জনমত তীব্র হয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগকে ইতোমধ্যেই প্রশংসা করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরবর্তী কারিগরি কাজ সম্পন্ন করে আজই চার্জশিট দাখিল করবেন বলে জানানো হয়েছে।












