ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দর্শক ও ফুটবলপ্রিয়রা এক অবিশ্বাস্য নাটকের সাক্ষী হয়েছে। নিয়মিত সময়ের পর যোগ করা চতুর্থ মিনিটে হিরাকাওয়ার দলের লম্বা ক্রস লক্ষ্যভ্রষ্ট হল না; বলটি পৌঁছেছিল ব্রাইন-এর কাছে। মিডলসবোরোর গোলরক্ষক যখন সেই বলটি ঠিকভাবে ধরে রাখতে ব্যর্থ হন, সুযোগটি নেন অলি ম্যাকবার্নি — এবং ৯৪তম মিনিটে করা তাঁর গোলই হাল সিটিকে ১-০ গোলে জয় এনে দেয়। ওই একমাত্র গোলের জোরেই দশ বছর পর আবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উঠার আনন্দে ভাসলো ক্লাব ও সমর্থকরা।
এ বছর চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনাল ছিল নানা টানাপোড়েনে ভরা। ‘‘স্পাইগেট’’ কেলেঙ্কারির ফলে সাউদাম্পটন বহিষ্কৃত হওয়ায় আকস্মিকভাবে ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছিল মিডলসবোরো। প্রস্তুতির ঘাটতি ও বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে অসুবিধার কারণে মিডলসবোরোর মাঠে পারফরম্যান্সে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। অপরদিকে হাল সিটি শুরু থেকেই সাহসী ও আক্রমণাত্মক মানসিকতায় লড়াই চালিয়ে গিয়েছে এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তটি কাজে লাগিয়ে সাফল্য নিশ্চিত করেছে।
হাল সিটির এই পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। ২০১৬-১৭ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হওয়ার পর থেকে ক্লাবটি দীর্ঘ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে; এক পর্যায়ে তারা লিগ ওয়ানে নেমে গিয়েছিল, মালিকানা পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও মাঠে অসন্তোষজনক ফলের কারণে শীর্ষ লিগে ফেরার স্বপ্ন বারবার পেছনে পড়েছে। সমর্থকদের নিরাশাজনক সেই দীর্ঘ প্রত্যাশা আজ আনন্দে বদলে গেছে।
ক্লাবের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কোচ সার্গেজ জাকিরোভিচ। ২০২৪-২৫ মৌসুমে দলকে রেলিগেশন ঝুঁকি থেকে বাঁচিয়ে রেখে এবারের আসরে জাকিরোভিচের নেতৃত্বে হাল সিটি এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখিয়েছে। বিপরীতে লড়ার মানসিকতা এবং কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে তারা চ্যাম্পিয়নশিপে ষষ্ঠ স্থান ধরে প্লে-অফ পেয়েছিল। সেমিফাইনালে মিলওয়ালকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে, এবং জাকিরোভিচের পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত তাদের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি proved।
অলি ম্যাকবার্নির জয়সূচক গোলটি এখন ক্লাবের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। দশ বছরের বিরতি কাটিয়ে প্রবেশ করা প্রিমিয়ার লিগ কেবল গৌরবই নয়, ক্লাবটির আর্থিক ও পেশাদার ভবিষ্যতেও বড় প্রভাব ফেলবে। নতুন মরসুমে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করার প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করবে হাল সিটি, আর এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন তাদের সমর্থকদের মনে দীর্ঘকাল আনন্দের স্মৃতি রেখে যাবে।














