পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কঠোর পদক্ষেপ ও বিক্ষোভ দমনকাজের অভিযোগের মধ্যে অঞ্চলটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, পরিস্থিতির অবনতি এসেছে তখনই যখন প্রভাবশালী নাগরিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)কে গত সপ্তাহে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জেএএসি দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য, করনীতি ও রাজনৈতিক অধিকারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই জনআন্দোলন তীব্র হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যবসায়ী নিহত হন। ওই ঘটনার পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রোববার (৭ জুন) রাওয়ালকোট শহরে বড় ধরনের ধান্ধায় পরিণত হয়। রাওয়ালকটের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহত ব্যবসায়ীর মরদেহ যখন হাসপাতালে মর্গে নেওয়া হয়েছিল, তখন সেখানে জেএএসি সমর্থকদের একটি সমাবেশ গড়ে ওঠে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে কিছু গোষ্ঠীর কর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে রাইফেল, পেট্রোল বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী সেই আক্রমণের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সেই সংঘর্ষে অন্তত ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হন। এছাড়া বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেএএসি সমর্থকেরা ঘটনার প্রকৃত পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ বলে দাবি করছেন। দুর্ঘটনা ও আহত হওয়ার সংখ্যা নিয়ে তাদের দিতে থাকা বক্তব্য ও সরকারি বিবৃতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং এখনও নিরপেক্ষভাবে পুরো সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
অবিচ্ছিন্ন উত্তেজনার মধ্যে যোগাযোগ ও তথ্যের প্রতিবেদন আসা-যাওয়া করছে, পরিস্থিতি এখনও বেশ নাড়াচাড়া। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় কার্যকারীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে সংঘর্ষ ও সহিংসতার কারণ ও পরিণতি নিয়ে মনোযোগী নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।













