ঢাকা | বুধবার | ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

২১ বছর পর মিরপুরে ক্যাঙ্গারু-বধ: অস্ট্রেলিয়া হারালো বাংলাদেশ

ক্রিকেটের বিশাল শক্তি অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশে আনন্দের ঢেউ। মিরপুরে মঙ্গলবার টাইগাররা ২১ বছরের প্রতীক্ষা ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় এক জয় তুলে নিল—বৃষ্টি-আইনে ৮৬ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ সিরিজে ১-০ এগিয়ে।

টস হেরে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, যিনি ক্যারিয়ারের সেরা ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন। তার সঙ্গে তানজিদ হাসান তামিম ৫৪ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন। অস্ট্রেলিয়ার পেসার নাথান এলিস ১০ ওভারে ৩৮ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নেন এবং এক ওভার মেডেন দিয়েছেন।

২৩৫ রানের লক্ষ্যে নামে অস্ট্রেলিয়া, কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা পান তারা—ইনিংসের প্রথম বলে ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। এরপর মোস্তাফিজুর রহমানও দলের হয়ে আঘাত শুরু করেন। দ্বিতীয় ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের রিভিউ নিয়েই মর্নাস লাবুশেনকে ১ রানে ফিরিয়ে দলকে সুবিধা এনে দেন মিরাজ।

চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে কনোলি একটি কাট খেলতে গিয়ে বল প্রথম স্লিপে থাকা তানজিদ হাসানের টামিমের হাতে আঘাত করলে ক্যাচ গড়িয়েও বাউন্ডারিতে চলে যায়; তখন কনোলির রান ছিল মাত্র এক। তবুও তৃতীয় উইকেটে কনোলি ও জশ ইংলিস জুটি গড়ে অজিদের পরিস্থিতি সামলে নেয়ার চেষ্টা করেন—তারা ৫৩ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন।

ইংলিসকে ফেরান রানা; ১১তম ওভারের প্রথম বলে ১৪৭.৯ কিমি গতি নিয়ে থাকা রানের ডেলিভারিতে ইংলিস কাট করতে গিয়ে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ ঢুকে পড়ে। ইংলিসের সঙ্গে রান নিয়ে একটু চতক্কার মুহূর্ত হলেও সহপাঠীরা পরিস্থিতি সামলান এবং ঝগড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

ইংলিসের বিদায়ের পর কনোলি একবার আবারও দলের হাল ধরেন এবং অ্যালেক্স ক্যারির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৫ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তবে ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে কনোলিকে (৩৫) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক।

বাংলাদেশের সংগঠিত বোলিং ও ধারাবাহিক উইকেটের চাপে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পেরেতে পারেনি। অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭, লিয়াম স্কট ২ ও হ্যাভিয়ের বার্টলেট ১ রানে ফিরে যান। রেনশকে (২) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন সৈকত; নাথান এলিসকে (৮) ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ—ক্যাচটি ধরেন সৈকত নিজেই।

অস্ট্রেলিয়া যখন ১৫৬ রানে ৯ উইকেটে ঘুরছিল, তখন অ্যাডাম জাম্পা ও ক্যামেরন গ্রিন আক্রমণ চালিয়ে হার কমানোর চেষ্টা করেন। দুজনে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়ার পরই বজ্রপাত ও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মাঠ থামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৭:০৫ মিনিটে আম্পায়াররা মাঠ বন্ধ ঘোষণা করে; পরে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শেষ হয় এবং বৃষ্টি-আইন অনুসারে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয় ঘোষণা করা হয়।

এই জয়ে বাংলাদেশ সময়ের দাবিতে বড় এক সাফল্য পায়—অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে টাইগারদের। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে মিরপুরে পরশু অনুষ্ঠিত হবে, আর তৃতীয় ওয়ানডে ১৪ জুন। ফলো-আপ ম্যাচগুলোয় টাইগাররা এই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।