ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান জিওরা আইল্যান্ড এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে সাম্প্রতিক সামরিক ও কৌশলগত সংঘাতে ইরানই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে। চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরান এই যুদ্ধে জিতেছে — হয়তো ভেঙে-পড়া ব্যবধানে, কিন্তু নিশ্চয়ই একটি স্পষ্ট বিজয়।”
আইল্যান্ডের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংঘাতকালীন সময়ে তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে গঠনমূলক একসঙ্গতা ছিল যা তাদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করেছে। তিনি দাবি করেন, সেটিই তাদের সক্ষমতা প্রকাশের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
সাবেক নিরাপত্তা প্রধান আরও বলছেন, এই বিজয়ের ফলে তেহরান ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনা ও দরকষাকষায় বহুগুণ বেশি সুবিধাজনক অবস্থান পাবে। নির্ধারিত বৈশ্বিক মঞ্চে ইরান আগের চেয়ে আরও বলপ্রয়োগ ও কৌশলগত সুবিধা নিয়ে অংশগ্রহণ করবে—এমনই তাঁর অভিমত।
আইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাকেও কড়া ভাষায় তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন এখন একধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে, যা আঞ্চলিক কৌশল ও সিদ্ধান্তগ্রহণকে ব্যাহত করছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের আশ্রয়-নিরাপত্তাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে আছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার সমালোচনা করে বলেন, শুধু সংঘাত বন্ধ করাই বর্তমানে প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে; কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ বা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করার মতো জটিল ইস্যুগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আইল্যান্ডের ভাষায়, এটিই ইসরায়েলের জন্য একটি অশনিসংকেত।
বিদেশি সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর এই মন্তব্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা উত্তেজিত করেছে। জিওরা আইল্যান্ডের বক্তব্যগুলো ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের ভবিষ্যৎ কৌশল ও কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, এবং অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।













